কপাল খুলল দরিদ্র জে’লে জামালের, ৮১টি পোপা মাছ বিক্রি হলো ৪০ লাখে!

একদিনে লাখপতি হলেন কক্সবাজারের মহেশখালীর উপজে’লার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের দরিদ্র জে’লে জামাল উদ্দিন।

গতকাল বুধবার ভোরে তাঁর জালে আ’ট’কা পড়েছে ৮১টি স্বর্ণালী পোপা। প্রতিটির ওজন ১৭ থেকে ২৫ কেজি। মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৪০ লাখ টাকায়। কক্সবাজার ফিসারিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মোহাম্ম’দ ইসহাকসহ কয়েকজন পোপা মাছগুলো কিনে নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সাইরার ডেইল এলাকার মৃ’ত মোহাম্ম’দ হোসেনের ছে’লে জামাল উদ্দিন বহদ্দারের জালে ধ’রা পড়ে ৮১টি বড়ো সাইজের স্বর্ণালী পোপা মাছ। গতকাল বুধবার সকালে কক্সবাজার উপকূলের খুব কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ উপজে’লা কুতুবদিয়া চ্যানেল মাছগুলো ধ’রা পড়ে।

ট্রলার মালিক জামাল উদ্দিন বহদ্দার জানান, মঙ্গলবার রাতে মাতারবাড়ির পশ্চিম পাশে কুতু্বদিয়া চ্যানেলে জে’লেরা জাল বসায়। গতকাল সকালে জাল তুলতে গিয়ে দেখতে পান, জাল টেনে কূলে তুলে আনা যাচ্ছে না। পরে আরও লোকজনের সহায়তায় জাল তোলা হলে দেখা যায় ৮১টি স্বর্ণালী পোপা মাছ ধ’রা পড়েছে। মাছগুলো মাতারবাড়ী উপকূলে আনা হলে শত শত উৎসুক লোকজন তা দেখতে ভিড় জমায়।

এ সময় তাৎক্ষণিক তিনি মাছগুলোর ৮০ লাখ টাকা দাম চাইলে প্রথমে ৩৯ লাখ টাকা পর্যন্ত দর উঠে। অনেক দরদামের পর কক্সবাজার ফিসারিঘাটের মোহাম্ম’দ ইসহাকসহ কয়েকজন ৪০ লাখ টাকায় মাছগুলো কিনে নেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহেশখালী দ্বীপে এর আগে এক সঙ্গে এতোগুলো স্বর্ণালী পোপা মাছ আর কোনো জে’লের জালে ধ’রা পড়েনি। তারা আরও জানান, মাছগুলো সময়মতো চট্টগ্রামে নিয়ে বাজারজাত করে বিক্রি করতে পারলে প্রায় কোটি টাকায় বিক্রি হতো।

জানা যায়, সামুদ্রিক এ জাতীয় পোপা মাছের ফৎনার দাম বেশি। বিদেশে স্যুপ হিসাবে উপাদেয় খাবার এসব ফৎনা। বিদেশে রপ্তানি করার জন্যই এসব মাছ অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে।

মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্ম’দ উল্লাহ মাস্টার জানান, দরিদ্র জে’লে জামাল উদ্দিনের জালে কোটি টাকার পোপা মাছ ধ’রা পড়ার খবর পেয়ে আমি সাগর তীরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমি এসব বিশাল আকারের পোপা মাছ দেখে অ’বাক হয়ে পড়ি।

তিনি বলেন, জামাল উদ্দিন এমনই একজন গরিব জে’লে যে, তার কোনো টাকাই নেই বরফ আনার জন্যও। আম’রা তড়িঘড়ি করে বরফ এনে মাছগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে দিই।

দ্বীপের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শওকত ইকবাল মুরাদ সরেজমিন মাছগুলো দেখে এসে জানান, জে’লে জামাল উদ্দিন ও তার ছে’লে মোজাম্মেল এমনই হতদরিদ্র যে, তাদের পরিবারে মোবাইল ফোনও নেই।

জানা গেছে, মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন সাইরার ডেইল জে’লে পাড়ার বাসিন্দা দরিদ্র জে’লে জামাল উদ্দিনের ১০/১২ লাখ টাকা কর্জ রয়েছে। কর্জের টাকা শোধ করতে না পেরে অভাগা জে’লে হোসেন গত ক’মাস ধরে হাটে-বাজারেও বের হননি। ছিলেন লোকজনের চোখের আড়ালে। ভাগ্য বলে কথা! সেই জে’লে জামাল উদ্দিনের জালে আ’ট’কা পড়া মাছ বিক্রির টাকায় তিনি এখন কর্জ শোধ করবেন। নির্মাণ করবেন একটি নতুন ঘর।